প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলরাশিতে যেকোনো শত্রু নৌবহরকে এক নিমেষে ধ্বংস করতে মার্কিন বিমান বাহিনী (ইউএসএফ) তাদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করেছে এক নতুন ও মারাত্মক সমীকরণ। এক আকস্মিক ঘোষণায় মার্কিন প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সেস (পিএসিএএফ) জানিয়েছে, তাদের রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম বিখ্যাত বি-২ স্পিরিট স্টিথ বোমারু বিমান থেকে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত নিখুঁত ও দূরপাল্লার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
বি-২ বোমারু বিমানের অস্ত্রভান্ডারে এই স্টিথ মিসাইলের উপস্থিতি এর আগে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। এই নতুন ক্ষমতা যুক্ত হওয়ার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো উচ্চ-মাত্রার যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিশাল কৌশলগত সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
.
'ভ্যালিয়ান্ট শিল্ড ২০২৬' মহড়ায় রণতরী ডুুবিয়ে পরীক্ষা
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে আয়োজিত একটি লাইভ-ফায়ার 'সিংকিং এক্সারসাইজ' (সিঙ্কেক্স)-এর অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়। 'ভ্যালিয়ান্ট শিল্ড ২০২৬' নামের এই যৌথ সামরিক মহড়ায় মার্কিন ও মিত্রবাহিনী মিলে আমেরিকারই একটি (অবসরপ্রাপ্ত) উভচর যুদ্ধজাহাজ 'এক্স-ইউএসএস জুনো'-কে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
বি-২ বোমারু বিমান থেকে ছিটকে যাওয়া দূরপাল্লার স্টিথ ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে জাহাজটিতে আঘাত হানে। পরবর্তীতে জাপানি নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিনের টর্পেডোর চূড়ান্ত আঘাতে জাহাজটি গুয়াম উপকূল থেকে প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগরের তলদেশে তলিয়ে যায়।
কেন এই সমীকরণ এতোটা বিপজ্জনক?
বি-২ নিজেই একটি অত্যন্ত উন্নত স্টিথ বোমারু বিমান, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যেতে সক্ষম। এর সাথে যখন রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় 'এলআরএসএম' যুক্ত হয়, তখন শত্রু রণতরীর পক্ষে এই জোড়া আক্রমণ টের পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
একটি বি-২ বোমারু বিমান একসাথে প্রায় ১৬টি এলআরএসএম বহন করতে পারে। এর অর্থ হলো, একক একটি বিমান থেকেই শত্রুর পুরো একটি বিমানবাহী রণতরী দল বা নৌবহর ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জিপিএস জ্যামিং প্রতিরোধী এবং এর ভেতরে রয়েছে নিজস্ব থ্রেট লাইব্রেরি। এটি ওড়ার সময় শত্রুর রাডার সিগন্যাল শনাক্ত করে নিজে থেকেই পথ পরিবর্তন করতে পারে এবং জাহাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।
বেইজিংয়ের প্রতি কঠোর বার্তা
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট নথিতেও বি-২ বিমানের সাথে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার কোনো উল্লেখ ছিল না। এই গোপন ক্ষমতাটির হঠাৎ প্রকাশ্য ঘোষণা মূলত বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি সরাসরি সামরিক বার্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের 'অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়েল' (এ২/এডি) প্রতিরক্ষা বলয় এবং বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল কেভিন বি. স্নাইডার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘শত্রুর ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিত করতেই আমরা আমাদের সামুদ্রিক হামলা পরিচালন ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’’
এই পরীক্ষার সফল সমাপ্তি মার্কিন বিমান বাহিনীর আগামী প্রজন্মের বি-২১ রেইডার বোমারু বিমান বহরেও এই দূরপাল্লার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ব্যবহারের পথ সুগম করল, যা ভবিষ্যতে আমেরিকার নৌ-যুদ্ধক্ষমতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বি-২ বোমারু বিমানের অস্ত্রভান্ডারে এই স্টিথ মিসাইলের উপস্থিতি এর আগে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। এই নতুন ক্ষমতা যুক্ত হওয়ার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো উচ্চ-মাত্রার যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিশাল কৌশলগত সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
.
'ভ্যালিয়ান্ট শিল্ড ২০২৬' মহড়ায় রণতরী ডুুবিয়ে পরীক্ষা
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে আয়োজিত একটি লাইভ-ফায়ার 'সিংকিং এক্সারসাইজ' (সিঙ্কেক্স)-এর অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়। 'ভ্যালিয়ান্ট শিল্ড ২০২৬' নামের এই যৌথ সামরিক মহড়ায় মার্কিন ও মিত্রবাহিনী মিলে আমেরিকারই একটি (অবসরপ্রাপ্ত) উভচর যুদ্ধজাহাজ 'এক্স-ইউএসএস জুনো'-কে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
বি-২ বোমারু বিমান থেকে ছিটকে যাওয়া দূরপাল্লার স্টিথ ক্ষেপণাস্ত্রটি নিখুঁতভাবে জাহাজটিতে আঘাত হানে। পরবর্তীতে জাপানি নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিনের টর্পেডোর চূড়ান্ত আঘাতে জাহাজটি গুয়াম উপকূল থেকে প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগরের তলদেশে তলিয়ে যায়।
কেন এই সমীকরণ এতোটা বিপজ্জনক?
বি-২ নিজেই একটি অত্যন্ত উন্নত স্টিথ বোমারু বিমান, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যেতে সক্ষম। এর সাথে যখন রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় 'এলআরএসএম' যুক্ত হয়, তখন শত্রু রণতরীর পক্ষে এই জোড়া আক্রমণ টের পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
একটি বি-২ বোমারু বিমান একসাথে প্রায় ১৬টি এলআরএসএম বহন করতে পারে। এর অর্থ হলো, একক একটি বিমান থেকেই শত্রুর পুরো একটি বিমানবাহী রণতরী দল বা নৌবহর ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জিপিএস জ্যামিং প্রতিরোধী এবং এর ভেতরে রয়েছে নিজস্ব থ্রেট লাইব্রেরি। এটি ওড়ার সময় শত্রুর রাডার সিগন্যাল শনাক্ত করে নিজে থেকেই পথ পরিবর্তন করতে পারে এবং জাহাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।
বেইজিংয়ের প্রতি কঠোর বার্তা
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট নথিতেও বি-২ বিমানের সাথে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার কোনো উল্লেখ ছিল না। এই গোপন ক্ষমতাটির হঠাৎ প্রকাশ্য ঘোষণা মূলত বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি সরাসরি সামরিক বার্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের 'অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়েল' (এ২/এডি) প্রতিরক্ষা বলয় এবং বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল কেভিন বি. স্নাইডার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘শত্রুর ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে এবং একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিত করতেই আমরা আমাদের সামুদ্রিক হামলা পরিচালন ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’’
এই পরীক্ষার সফল সমাপ্তি মার্কিন বিমান বাহিনীর আগামী প্রজন্মের বি-২১ রেইডার বোমারু বিমান বহরেও এই দূরপাল্লার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ব্যবহারের পথ সুগম করল, যা ভবিষ্যতে আমেরিকার নৌ-যুদ্ধক্ষমতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
আন্তজার্তিক ডেস্ক